প্রিয়জন নাকি প্রয়োজন ? [BELOVED OR NEEDED]
মুখোশ পরিধারণ করা এই সমাজে এটা বিবেচনা করাটা খুবই মুশকিল যে আপনি কারোর প্রিয়জন, নাকি শুধুই তার প্রয়োজন। যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে একটি গল্প আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছি।
-প্রিয়জন নাকি প্রয়োজন!
নন্দিপুর নামক এক গ্রামে ভোলা নামের একটি ছেলে তার দাদুর সঙ্গে মাটির কুটিরে বাস করত। ভোলার দৃষ্টিশক্তি ভালো ছিল না বলে গ্রামের কোন বাচ্চাই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইতো না। কারণ ভোলার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হাওয়াই সে কোন প্রকারের খেলাতে বাকিদের মতো ক্রিয়াকৌশলে দক্ষ হয়ে উঠতে পারত না। সে তার বেশিরভাগ সময়ই দাদুর কাছে গল্প শুনেই করতো।
এইভাবে কেটে যায় বহুদিন। একদিন ভোলা তার বাড়ির পেছনের বাগানে ঘুরতে, ঘুরতে একটি আম গাছ দেখে একেবারে বাগানের শেষ দিকের কোণে।
ভোলা ওই আম গাছটির কাছে গিয়ে তার মনের দুঃখ প্রকাশ করে। গাছটি সবকিছু শুনে ভোলা কে উত্তর দেয়- তুমি কি আমার বন্ধু হবে !
ভোলা এটা শুনে খুব খুশি হলা, কারণ সে আজ প্রথমবার কাউকে বন্ধু পাতিয়েছে। প্রথমবার কেউ তাকে বন্ধু বলে ডেকেছে। এইভাবে শুরু হল ভোলা ও গাছের বন্ধুত্ব।
![]() |
ভোলা প্রতিদিন সেই গাছের কাছে আসতো এবং গাছটির গোটা দিনের খবর নিত। আর নিজের খবরও গাছকে জানাত। ওই কথোপকথনের মাধ্যমে গাছ জানতে পারে যে ভোলার দৃষ্টি শক্তি দুর্বল। তাই সে ভালো করে দেখতে পারে না। এই কথা জানার পরে আমগাছটি ভোলাকে নির্দেশ দেয়, যে তার কাছে যত পাকা আম রয়েছে সেগুলি সব পেরে নিয়ে হাটে বিক্রি করেতে। এবং যা টাকা আয় হবে সেটা দিয়ে তার চোখের চিকিৎসা করাতে। গাছের কথামতো ভোলা সব পাকা আম পেড়ে হাটে বিক্রি করে, আর যা আয় হয় তা দিয়ে তার নিজের চোখের চিকিৎসা করাই। কিছুদিনের মধ্যে ভোলার চোখ একেবারে ঠিক হয়ে যায়। এই সুখবরটা শুনে গাছও খুব খুশি হয় কারণ সে ছিল ভোলার এক প্রকৃত বন্ধু। ভোলার চোখ ঠিক হয়ে যাওয়ার ফোলে ভোলা তার গ্রামের আরো ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার সুজোক পাই। অনেক বন্ধুও হয়ে যায় তার। এই ফাঁকে ভোলা তার প্রকৃত বন্ধু ওই গাছের কথা ভুলেই যায়। আর ওদিকে ভোলার অপেক্ষায় গাছও মনমরা হয়ে পড়ে থাকে। সময় কাটতে থাকে।
কিছুদিন পর যখন ভোলা সেই গাছটির কাছে যায় তখন গাছটি ভোলা কে জিজ্ঞাসা করে, কেন সে এতদিন তার কাছে আসেনি তার কি কোন বিপদ হয়েছিল। তখন ভোলা উত্তরে বলে _“না না আসলে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে তাই তাদের সঙ্গে খেলতে ব্যস্ত ছিলাম”। গাছ শুনে খুশি হয় যে ভোলার আরো নতুন বন্ধু হয়েছে। কিন্তু ভোলা খুশি ছিল না। ভোলার এইরকম মন খারাপ দেখে গাছ তাকে জিজ্ঞাসা করে - “ভোলা তোমার কি কিছু হয়েছে?”।
ভোলা উত্তরে বলে _“ না আমার কিছু হয়নি। আসলে আমার বন্ধুদের কাছে অনেক রকমের খেলার জিনিস রয়েছে কিন্তু আমার কাছে কিছুই নেই, যা নিয়ে আমি তাদের সঙ্গে খেলব”। তখন গাছটি ভোলাকে বলে তুমি আমার গাছের একটা ডাল কেটে নাও আর ওই ডাল দিয়ে তুমি একটি ক্রিকেট ব্যাট তৈরি করো। যেটা নিয়ে তুমি তোমার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারবে। ভোলা এটা শুনে খুশি হল এবং গাছের উপরে ছেপে একটি ডাল কাটতে শুরু করল। গাছের কষ্ট হলেও ভোলার মুখের হাসি দেখে সে তার সব কষ্ট ভুলে যায়। ডাল কেটে নেওয়ার পর ভোলা গাছকে আবার দেখা করার আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
এই ভাবে কেটে যায় বেশকিছু সময়। গাছ ভোলার প্রতীক্ষায় গুমড়ে, গুমড়ে শুকোতে শুরু করে। দিন কাটে, বছরও কেটে যায়, কিন্তু ভোলার কোন দেখা নেই।
গাছ ভোলার পথ চেয়ে থাকে।
হঠাৎ একদিন ভোলা বাগানে আসে, ভোলা এখন যুবক! গাছটা জিজ্ঞাসা করতে না করতেই ভোলা বলে ওঠে -“এখন আমি আর সেই ছোট্ট ভোলা নেই যে তোমার সঙ্গে গল্পগুজবের সময় কাটাব। এখন আমাকে আরো অনেককে সময় দিতে হয়। তাই তোমার জন্যে আমার কাছে আর কোন সময় নেই”। এই বলে ভোলা সেখান থেকে চলে গেল। গাছ ভোলার কথা শুনে খুবই কষ্ট পেলো কিন্তু তারও তো আর কিছু করার নেই। এই কষ্ট মনে ছেপে রেখে রেখেই গাছটি একেবারে শুকিয়ে গেল। সে মনে করতে থাকে ওই পুরনো কথা গুলো, যখন ভোলার সঙ্গে কেউ বন্ধুত্ব করতে চাইতো না। একমাত্র সে ছাড়া আর কেউ ছিলনা তার বন্ধু। দুঃখে, কষ্টে, আনন্দে সবসময় সে তার সঙ্গে ছিল। ভোলার পর্তেক সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতো সে। কারণ ভোলাকে তার নিজের প্ৰিয়জন মনে করতো, নিজের প্রকৃত বন্ধু বলে মনে করতো। কিন্তু ভোলা শুধু তার প্রয়োজনে গাছের কথা মনে করতো আর প্রয়োজন ফুরোলেই ভুলে যেতো সে তার প্রকৃত বন্ধুকে। এইসব কথা ভেবে ভেবেই গাছ তার শেষ সময় টুকু অতিবাহিত করে।
শিক্ষণীয় কথা
ভোলার মত হয়তো আপনিও কাউকে নিজের প্রকৃত বন্ধু বলে মনে করেছেন, নিজের প্রিয়জন বলে মনে করেছেন। দুঃখে কষ্টে সব সময় তার হাত ধরেছেন। তাকে জানিয়েছেন যে আপনি রয়েছেন তারা পাশে। কিন্তু তারা হয়তো আপনাকে প্রয়োজন ছাড়া আর কিছুই মনে করেনা। তাদের কাজের সময় হয়তো আপনার চেয়ে বড় বন্ধু আর কেউ নেই, কিন্তু আপনার প্রয়োজনে তারা আপনাকে চিনতেও অস্বীকার করে দেয়। তখন মনে কষ্ট হয় খুব নিজের ওপর দোষ দিয়ে বসে থাকেন _ ‘হইতো আমিই মানুষ চিনতে পারলাম না’। কিন্তু সেটা আপনার ভুল নয় ভুলটা তার যে আপনার মত একজন প্রকৃত বুন্ধুকে চিনতে পারলনা। আর এই সার্থপর সমাজে একজন প্রকৃত বন্ধু পাওয়া মানে পৃথিবীর সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ পাওয়ার মত যা কখনোই শেষ হবে না।
আর যারা শুধু প্রয়োজনে সম্পর্ক করে থাকেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি_ আজ যদি আপনি শুধু প্রয়োজনে কাউকে মনে করেন তাহলে পরবর্তী সময়ে আপনাকেও মানুষ প্রয়োজনেই মনে করবে। কোনদিন কারোর প্রিয়জন হতে পারবেন না। তাই প্রিয়জন হওয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আপনিও একজন কে পাশে পাবেন।
.…......................................................................
ধন্যবাদ আপনাদের যারা নিজের সময় দিয়ে আমার এই আর্টিকেল টি পড়লেন।
আর যদি জানতে চান যে এত বড় সর্থপরতা করার পরে ভোলার কি হলো তাহলে কমেন্টে আময়_ # পর্ব ২ লিখে পাঠান। ১০ টার বেশি কমেন্ট এলে আমি অবশ্যই গল্পের ২য় পর্ব আপলোড করবো।




#part 2
উত্তরমুছুনপর্ব 2
উত্তরমুছুনপর্ব 2
উত্তরমুছুনপর্ব 2
উত্তরমুছুনদ্বিতীয় পর্ব
উত্তরমুছুনKhub valo laglo golpo ta..
উত্তরমুছুন