মানবিকতার মৃত্যু [ THE DEATH OF HUMANITY]
শুনেছিলাম পৃথিবীর সবচাইতে বুদ্ধিমান ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা ভাবতে বাধ্য করে দেয় যে সত্যি কি মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, না সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও কঠোর হৃদয়ের এক জীব।
এ রকমই এক ঘটনার সাক্ষী রইল কেরালার মালাপ্পুরাম।
ঘটনার বিবরণ~
গর্ভবতী এক হাতি তার খাবারের খোঁজে ঘুরছিল বোনের আনাচে কানাচে। এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়ে সে স্থানীয় লোকালয়ে। কিন্তু কারোরই ক্ষতি করেনি হাতিটি। হয়তো মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল তার হৃদয়ে। তাইতো কিছু মানুষ যখন তাকে খাবার জন্য আনারস খেতে দেই, তখন কোন কিছুর চিন্তা না করে নিজের এবং গর্ভে থাকা সন্তানের কথা ভেবে আনারসটি মুখে তুলে নেয়। তখনও হাতিটির মনে হয়তো এটাই চলছিল যে সত্যিই মানুষ কত দয়ালু ও সাহায্যকারী। কিন্তু তার এই ভাবনা এত দ্রুতই পরিবর্তন হয়ে যাবে সে নিজেও বুঝতে পারিনি।
হাতিটি আনারস টাকে তুলে নিল তার মুখে। হঠাৎ হলো এক বিস্ফোরণ, ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল হাতিটির মুখ ও জিব। আসলে যে আনারসটি তাকে খেতে দেওয়া হয়েছিল তাতে ছিল বারুদ ভর্তি বাজি। তাই আনারসটি মুখে তুলে নিতেই সশব্দে এক বিস্ফোরণ ঘটায়। রক্তে ভরে গেল তার মুখ,প্রচন্ড যন্ত্রণা আর কষ্টের মধ্যে থেকেও হাতিটি কিন্তু কারও ক্ষতি করেনি। ধীর গতিতে এগিয়ে গেল সে জলের খোঁজে। নিজের চেষ্টাতেই খুঁজতে-খুঁজতে হাতিটি পৌঁছে যায় ভেলিয়ার নদী পর্যন্ত। জলের খোঁজ পেয়েই সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়ে নদীর মাঝে। অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল সেই নদীতে। যাতে তার মুখের জ্বালা টা কিছুটা হলেও যদি কমে! শুধু কি তাই। তার গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তানের কথা ভেবে যাতে সে বেঁচে থাকে। আসলে তার সন্তান বেচে থাকে!
বহু প্রচেষ্টা করে সে নিজেকে এবং তার সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু অবশেষে ওই নদীতে দাঁড়িয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে হাতিটি।
এত নিষ্ঠুর ভাবে মানুষ একটি মা ও তার সন্তানকে মেরে ফেলল। এই দৃশ্য দেখে বলতে বাধ্য যে _ ‘সত্যি মানুষের মানবিকতা মারা গেছে’।
একটি বন্য জন্তু হলেও হাতিটি আমাদের ভালোবাসা এবং বিশ্বাসের এক নতুন পরিভাষা বুঝিয়ে গেল। আর সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব হয়ও মানুষ বন্য পশুর মত আচরণ করলো।




So
উত্তরমুছুনSotti khub kharap lag6e hati tar kotha ta vebe.manus aii rokom ki kore korte pare.
উত্তরমুছুন