লড়াই [ FIGHTING ]
“লড়াই”- শব্দটি দেখে হয়তো আপনি ভাবছেন কোন প্রকার রণক্ষেত্রের ব্যাপারে কথা হবে হয়তো কিন্তু তা নয়। তাহলে আবার কেমন লড়াই ? এই প্রশ্নটাই মাথায় আসছে তো। তাহলে চলুন গল্পটা একবার দেখে নেওয়া যাক, আশা করছি তাতে আপনার কিছুটা হলেও ধারণা হবে যে কোন প্রকারের লড়াইয়ের কথা আমি বলতে চেয়েছি।
একটি গ্রামে বিশু নামে একজন চৌকিদার ছিল। সে রাত্রি বেলা গ্রামে পাহারা দিত। যাতে কোন প্রকারের চোর বা ডাকাত ওই গ্রামে এসে উৎপাত না করতে পারে। এবং সঙ্গী হিসাবে একটি কুকুর তার কাছে থাকতো। কিন্তু বিশুচৌকিদার ঠিকমতো তার কাজ করতে পারছিল না। কারণ তার কাছে যে কুকুরটি ছিল সে বয়স্ক হয়ে পড়েছিল। তার মধ্যে আর সে শক্তি ছিলনা যে কোন প্রকার চোর-ডাকাত এলে তাদের শায়েস্তা করতে পারবে। তাই চৌকিদার তাকে আর সঙ্গে রাখতে চাইছিল না।
একদিন সন্ধ্যেবেলা কুকুরটি ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত অগভীর কুয়ায় পড়ে যায়। কুয়ার গভীরতা সেরম না হলেও কুকুরটির উচ্চতা থেকে বেশি ছিল। তাই শত চেষ্টা করার পরেও সে ওই কুয়া থেকে বেরোতে পারল না। অবশেষে কুকুরটি চেঁচাতে শুরু করে, তার চিৎকার শুনে চৌকিদার ও আশেপাশে থাকা লোকজন ওই কুয়ার কাছে আসে।
এবং দেখে যে কুকুরটি কুয়ার মধ্যে পড়ে রয়েছে। তারাও কুকুরটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করল কিন্তু পারলো না। চৌকিদার তখন চিন্তা করল,যেহেতু কুয়াটি আগে থেকেই বিপজ্জনক। বেশ কয়েকটি বাচ্চা কুয়াতে পড়ে বারবার আহত হয়েছে। তার উপর কুকুরটিও অনেক বুড়ো এবং দুর্বল হয়ে গেছে। তাই সে সিদ্ধান্ত নিল কুকুর সহ কুয়াটি ভরাট করে ফেলবে। আর তার আশেপাশে থাকা লোকজনকেও এই বিচারটি দিলো ও কুয়াটি ভরাট করার জন্য তাকে সাহায্য করতে বলল।
সবাই চৌকিদারের কথায় সহমত হয় এবং বেলচা কোদাল এনে পাশের জমী থেকে মাটি কেটে কুয়াহাটি ভরাট করতে শুরু করে। দু- চার বার মাটির ফেলার পর কুকুরটি বুঝতে পারে যে তার সঙ্গে কি হতে চলেছে। তাই সে ভয় ও দুঃখে কাঁদতে শুরু করে। কারণ তার আপনজন অর্থাৎ চৌকিদার নিজেও তার উপর মাটি ফেলে তাকে সহ কূয়াটি ভরাট করছে। চৌকিদাকে সে কত কাজে সাহায্য করেছে অথচ এখন তার গায়ে আর তেমন কাজ করার শক্তি নেই বলে চৌকিদার নিজেও তাকে বাঁচাতে চাইছে না।
কিছুক্ষণ মাটি ফেলার পরে সবাই হঠাৎ চমকে গেল, কারণ কুকুরটি ইতিমধ্যে অনেকটা উপরে উঠে এসেছে। সবাই যখন কুকুরটির উপরে মাটি ফেলছে, কুকুরটি তখন গা-ঝাড়া দিয়ে মাটি নিচে ফেলে দিচ্ছে এবং ভরাট হওয়া জায়গাতে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আসল ব্ ব্যাপারটা সবায় না বুঝতে পারায়, চৌকিদার সহ সবাই দ্রুত কুকুরটির উপরে মাটি ফেলতে শুরু করল যেন কুকুরটি দ্রুত মাটিতে চাপা পরে যায়। এদিকে যত তারা তারি মাটি ফেলছে কুকুরটিও তত তারা তারি মাটি গায়ের ওপর থেকে ঝেড়েফেলে ভরাট হওয়া জায়গাতে এসে দাঁড়াচ্ছে। এভাবে কিছুক্ষণ মাটি ফেলার পর সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করল কুয়াটি প্রায় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। আর কুকুরটিও তার বুদ্ধি মত্তার পরিচয় দিয়ে ওই কুয়া থেকে বেরোতে সক্ষম হয়েছে।
হয়তো আপনি বুঝতে পারলেন যে লড়াই টি কার সঙ্গে ছিল এবং কি নিয়েছিল। এখানে লড়াইটি কোন সৈন্যের সঙ্গে ছিল না, এখানে লড়াইটি ছিল পৃথিবীতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার, এখানে লড়াইটি ছিল সমাজে নিজেকে প্রমাণ করার। রাজ্য জয় করা নয়, এখানে লড়াইটি ছিল নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার।
শিক্ষণীয় বিষয়~
জীবনে চলার পথে এমন অসংখ্য কুয়াতে আপনিও পড়বেন, যা থেকে উঠে আসার মতো সক্ষমতা হয়তো আপনার থাকবে না। এমন সময় আপনার কিছু আপনজন এবং আশপাশের মানুষগুলো আপনাকে টেনে তোলার পরিবর্তে আরো ডুবিয়ে দিতে চাইবে। কিন্তু এ অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হলে নিরব না থেকে আপনাকে ওই কুকুরটির মতই গা-থেকে নোংরা গুলো একটু একটু করে ঝাড়া দিয়ে ফেলতে হবে যতক্ষণ না ওই নোংরা, আবর্জনা দিয়ে কুয়াটা পূর্ণ হয়ে যায়।
সবাই আপনাকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার উপর যতবার আবর্জনা ফেলবে আপনিও প্রতিবার একটু একটু করে ঝাড়া দিয়ে আবর্জনাগুলো সরিয়ে দিবেন। তারপর ওই আবর্জনার স্তুপের উপরে গিয়ে দাঁড়াবেন। প্রতিটি সমস্যা-ই আবর্জনার মতো। আপনি থেমে থাকলে আবর্জনার পাহাড় এসে আপনাকে জীবন্ত কবর দিয়ে দেবে। তাই এভাবেই আস্তে আস্তে মাথা উচু করে দাঁড়াতে শিখুন। মনে রাখবেন অনেকেই আপনার ক্ষতি করতে চাই। কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারে না, আপনার মধ্যে সেই ক্ষতি গুলোকে কাজে লাগিয়ে আরো উচুতে উঠার মত ক্ষমতা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে একটি ছোট্ট কবিতা আপনাদের সম্মুখে রাখি।
ভাঙবো পড়বো তবুও লড়বো।
হাতুড়ির আঘাতে নিজেকে গড়বো।।
ঠাট্টা মজা স্তব্ধ হবে।
যেদিন নিজেকে প্রমাণ করব।।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমার এই গল্পটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
যদি কোনরকম প্রশ্ন অথবা পরামর্শ থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে আপনি আমায় জানাতে পারেন।