খ্রিষ্টিয় সংগীত ব্যান্ড ‘হলি রক’- এর ভাঙা-গড়া গল্প [ JOURNEY OF THE HOLY ROCK BAND]
আমি একটি বাংলা সংগীত ব্যান্ড, আর এটা আমার গল্প। ভাঙা গড়ার গল্প। শুধু আমি কেনো এটি প্রত্যেক ছোটো, ছোটো বাংলা সংগীত ব্যান্ডের গল্প। যারা চুর্ণ বিচুর্ণ হয়েও আবার দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
আমি HOLY ROCK, হয়তো অনেকে চেনেন আবার অনেকের কাছে আমি অচেনা। আমাকে তৈরী করার উদ্দেশ্য মূলত খ্রিষ্টীয় গান ও ঈশ্বরের বাক্য প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু আমার জন্মের পেছনেও রয়েছে এক আশ্চর্যময় কাহিনী, তাহলে ঘটনাটা বলি শুনুন।
এক শীতের রাতে বর্ধমান শহরের বাদশাহী রোড নামক এলাকার মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল একটি খ্রিষ্টীয় সম্মেলন। শীতের রাত মানে বুঝতেই পারছেন, খোলা মাঠে এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে হুহু করে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে চলেছে। ধারালো অস্ত্রের মতো আঘাত করছে গতিময় শীতল বাতাস। এই ঠান্ডায় প্রয়োজনেও কেউ বাড়ির বাইরে বেরোতে দু চার বার ভাববে, তারপর খোলা মাঠে দাঁড়িয়েব বক্তৃতা শোনার কথা ছেরেই দিলাম। তাই শূন্য হয়ে পড়ে রইল অনুষ্ঠান চত্ত্বর, লাল নীল আলো জ্বালানো মঞ্চ। সম্মেলনের এরকম দুরাবস্থা দেখে অনুষ্ঠান পরিচালনার দয়িত্বে থাকা তিনটি যুবক পরিকল্পনা করলো যে, তারা খ্রীষ্টের মহিমায় গান গাইবেন। তাতে যদি কিছু সংখ্যক লোকজনের সমাগম হলেও হতে পারে সেই অনুষ্ঠানে। এই ভেবে তারা নিজেদেরকে গান পরিবেশন করার জন্য প্রস্তুত করলেন। আর ঠিক তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গান শুনে অনেকেই আসলেন, অনেকে তো নাচতেও শুরু করে দিলেন। এতক্ষণে মনে হচ্ছে যেন সত্যি কোনো অনুষ্ঠান চলছে এই মাঠে।

দুটো গান শোনার পর মঞ্চের বাম দিক থেকে একটি প্রশ্ন উঠে আসলো,
“ আরে ব্যান্ড টার নাম কী রে ?....”।
প্রশ্ন টা আসার সঙ্গে, সঙ্গে নিঃস্তব্ধ হয়ে পড়ল মঞ্চটি, কারণ ওই যুবকেরা ভাবেনি যে তাদেরকে ব্যান্ড বলে আখ্যায়িত করা হবে। তাই এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না তাদের কাছে। এরকম চুপ করে যাওয়া দেখে অনেকে হাঁসা, হাঁসি শুরু করে দিলো। সে কি এক অট্টহাসি!
পরিস্থিতি হাত থেকে বেরিয়ে না যায় তাই সম্মেলনের বক্তা নিজে থেকেই একটা নাম ঘোষণা করলেন _
“ THE HOLY ROCK BAND”।
এই ভাবেই হঠাৎ করে জন্ম হলো আমার। হঠাৎ করে জন্ম হলেও অনেকের হৃদয় জয় করেছিলাম আমি। ধীরে ধীরে শুরু হলো আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা। শুরু হলো বিভিন্ন জায়গায় আমার প্রদর্শন, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল আমার নাম। কিন্তু এই আনন্দটা বেশিদিন স্থায়ী রইল না
ভাঙন-
অন্যান্য ব্র্যান্ডের মতোই আমিও নির্দিষ্ট কোন একজনের পরিকল্পনায় পরিচালিত ছিলাম না, চারটি ভিন্ন মস্তিষ্কের ব্যাক্তিদের দ্বারা পরিচালিত ছিলাম। কেউ বলছে সিনেমার গান করব আবার কেউ বলছে বাংলা ফোক। কিন্তু আমার কাজ যে ছিল খ্রীষ্টের সংগীত পরিবেশন করা। যাদের বিশ্বাস আমার সাথে জড়িয়ে ছিল তারা সিনেমার গান করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়, আবার অন্যরা খ্রিষ্টীয় গান করবে না বলে জেদ ধরে। বলে নাকি সিনেমার গানে আয় ভালো হয় কিন্তু খ্রিষ্টীয় গানে কোন আয় নেই। কথাটা একেবারে ফেলে দেওয়ার মতন নয় কিছুটা হলেও সত্য, আবার একজন বিশ্বাসীর কাছে আয় টা বড় নয় ঈশ্বরের বাক্যের প্রচারটা বড়। এইভাবে শুরু হলো নিজেদের মধ্যে বিভেদ, না না হাতাহাতি নয় আমার দ্বারা কি গান পরিবেশন হবে তা নিয়ে। অবশেষে কিছু জন পরিত্যাগ করল আমায়। ভেঙে পড়ল একতা, ভেঙে পড়লাম আমিও।
নতুন করে গড়ে ওঠা-
ভেঙে যাওয়ার পরেও কিছু মানুষের হৃদয়ে ছিলাম আমি। তারা আবার একটু, একটু করে গড়তে শুরু করলো আমাকে। হ্যাঁ কাজটা যুদ্ধের থেকে কম ছিল না, কিন্তু হার মানল না তারা। শুরু হলো নতুন করে খোঁজ, তবলা বাদক, রিদিম গিটারিস্ট, এবং একটি লিরিক্স রাইটারের। অনেক প্রচেষ্টার পর সকলকে একত্রিত করা হলো, শুরু হয়ে গেল জেমিং। চলল অবিরাম পরিশ্রম। এবার আর কোন মতভেদ নয়, সকলের একই উদ্দেশ্য দাঁড়ালো- আয় নয় ভালো মিউজিক ও গান পরিবেশন করাই হবে THE HOLY ROCK- এর প্রধান উদ্দেশ্য । ধীরে ধীরে আবার ছড়িয়ে পরল আমার নাম। যারা আমায় নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিল তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চললাম আমি। আমাকে আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন আপনাদের ভালোবাসা, কারণ আপনাদের ভালোবাসার জন্য আজ আমি-
“THE HOLY ROCK BAND”।
Christian songs powered by HOLY ROCK BAND -https://www.youtube.com/playlist?list=PLyjUl7XgQJdiOFEMXTeKd76fOPVtCnuSd

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আমার এই গল্পটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
যদি কোনরকম প্রশ্ন অথবা পরামর্শ থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে আপনি আমায় জানাতে পারেন।