একটি নারীর প্রশ্ন আমি কে? [ WHO AM I ]

             

কখনো দেবী, কখনো স্ত্রী, কখনো আবার কলঙ্কিনী,
আসলে আমি কে? কি আমার অস্তিত্ব? 

এতগুলো প্রশ্ন ছুঁড়লো সে আমার দিকে, 
 সে..? আমার সঙ্গে কলেজে পড়া এক বান্ধবী! 
প্রশ্ন গুলো শুনে আমিও ভাবনায় পরে গেলাম। উত্তরে কি বলবো! নারী হচ্ছে দেবীর স্বরূপ, তবুওতো উক্তিটি সঠিক হবে না। কারণ - ওই দেবীকেই যে অনেকে নিজের বাড়িতে আনতে চাইনা, অনেকের কাছে  বাড়িতে মেয়ে জন্ম নেওয়ার মানে মাথায় বোঝা। আবার কিছু জানোয়ার রূপ ধারী মানুষ ওই দেবীরি  শরীর শোষণ করে ফেলে দেয়। জঙ্গলের মাঝে,  ড্রেনের কোণে অথবা নির্জন এলাকায় পুড়ে যাওয়া শরীর পরে থাকে তার। কিন্তু আমি তো কখনই দেবীর এইরকম রূপ দেখিনি! আমি তো দেখেছি উল্লাসে আনন্দে দেবী কে বরণ করতে, আমিতো দেখেছি সসম্মানে এবং শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করতে। তাহলে যদি নারী দেবী হয়, তবে তাদের প্রতি এরকম নিঠুর ব্যাবহার কেনো?


আবার যদি বলি  কলঙ্কিনী, তাহলে অনেকের চোখে ভেসে উঠবে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থেকে নিজের শরীরের দাম দর করা এক মহিলার ছবি। সহজ ভাষায় আমরা যাকে বেশ্যা বলে থাকি, কিন্তু রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা সেই মহিলাটিও আবার বাড়িতে গিয়ে একটি মা-এর ভূমিকা পালন করে। একটি নারী কখনোই  সেচ্ছাই নিজের শরীরের দাম দর করেনা, তাকে এই সমাজ আর পরিস্থিতি বাধ্য করে দেয় তা করতে। সেও চাই তাকে মানুষ সম্মান করুক, কারণ একটি নারীর কাছে তার দেহের মান ও সমমানের থেকে  বড় কিছুই না। আমরা যাকে বেশ্যা বলে অভিহিত করি কেউ একজন তাকে মা বলেও ডাকে। আর এই মা ডাক টাকে সমাজে বড় করে তোলার জন্যই হয়তো তাকে তার শরীর বেচতে হয়। তার মানে সে কলঙ্কিনী না সে একজন দাইত্ব বান মা!



তাহলে একটি নারীর আসল পরিচয়টা কী?

একটি নারী জলের মতো! 
 যেমন জল কে আমরা যে পাত্রে রাখি জল সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। তেমনি একটি নারীকে আপনি যেমন চাইছেন সে সেই রূপে আপনার কাছে নিজেকে প্রকাশ করে। ছেলের কাছে মা, স্বামীর কাছে স্ত্রী, আবার কারোর কাছে কলঙ্কিনী।
যেই ভাবে জল আমাদের জীবনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে, তেমনি  নারীও এই সমাজে অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করে।

শেষে একটাই কথা বলবো নারী কে সম্মান করুন।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গাধার সাথে তর্ক [ Arguing With The Donkey ]

বিজয়ী [ winner ]

উদ্দেশ্যহীন জীবন [LIFE Without Hope]